খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৯ জানুয়ারী ২০২৬ | ১৬ মাঘ ১৪৩২

নির্বাচনে বড় পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে কমনওয়েলথ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন

খবর প্রতিবেদন |
০৩:১৮ পি.এম | ২৯ জানুয়ারী ২০২৬


আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সংস্কার সনদ বিষয়ক গণভোট পর্যবেক্ষণে কমনওয়েলথ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বড় আকারের পর্যবেক্ষক দল পাঠাতে যাচ্ছে। ঢাকায় প্রাপ্ত বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরের দিকে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কমনওয়েলথ সেক্রেটারি জেনারেল শার্লি বচওয়ে চলতি মাসের শুরুতে লন্ডনে ঘোষণা দেন, ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো-আড্ডো ১৪ সদস্যের কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের নেতৃত্ব দেবেন।

রাজনীতি, আইন, গণমাধ্যম, লিঙ্গসমতা ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অভিজ্ঞ বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞরা এ পর্যবেক্ষক দলে থাকবেন। লিনফোর্ড অ্যান্ড্রুজের নেতৃত্বে ইলেক্টোরাল সাপোর্ট সেকশনের একটি সচিবালয় দল পর্যবেক্ষক দলকে সহায়তা করবে।

২১ জানুয়ারি দেওয়া এক বিবৃতিতে কমনওয়েলথ জানায়, নির্বাচন ও গণভোট বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে কি না—তা স্বাধীনভাবে মূল্যায়ন করাই পর্যবেক্ষক দলের ম্যান্ডেট।

আরও বলা হয়, বাংলাদেশ যে মানদণ্ডে নিজেকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করেছে, জাতীয় আইনসহ সেই মানদণ্ডের আলোকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর পর্যবেক্ষক দল প্রতিবেদন দেবে।

কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলে রয়েছেন মালদ্বীপের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপমন্ত্রী জেফ্রি সালিম ওয়াহিদ, সিয়েরা লিওনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড জন ফ্রান্সিস, মালয়েশিয়ার সাবেক সিনেটর রাস আদিবা মোহদ রাজি; পাশাপাশি অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, কানাডা, ফিজি, মরিশাস, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, উগান্ডা, যুক্তরাজ্য ও জাম্বিয়ার প্রতিনিধিরা।

কমনওয়েলথের ঘোষণার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নও নিশ্চিত করেছে যে, ২৭টি ইইউ সদস্য রাষ্ট্রের পাশাপাশি নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড ও কানাডা থেকে প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনে (ইইউ ইওএম) যোগ দেবেন।

ইইউ ইওএম-এর প্রধান পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন লাটভিয়ার ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ইভার্স ইজাবস।

এই মিশনে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আরও অন্তত সাতজন সদস্য থাকবেন—লুকাস ম্যান্ডল (অস্ট্রিয়া), লোরান্ত ভিঞ্চে (রোমানিয়া), তোমাশ জদেখোভস্কি (চেকিয়া), লেইরে পাইহিন (স্পেন), শেরবান দিমিত্রিয়ে স্টুরদজা (রোমানিয়া), মাইকেল ম্যাকনামারা (আয়ারল্যান্ড) ও ক্যাটারিনা ভিয়েরা (নেদারল্যান্ডস)। তারা ১০ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাংলাদেশ সফর করবেন।

ইইউ ইওএম-এর কার্যক্রম শুরু হয় ২৯ ডিসেম্বর একটি কোর টিমের আগমনের মাধ্যমে। এতে রয়েছেন ১১ জন বিশ্লেষক, যাদের সঙ্গে লজিস্টিক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা যুক্ত আছেন। তারা নির্বাচন প্রক্রিয়ার সব ধাপ—আইনি, রাজনৈতিক, নির্বাচনী ও গণমাধ্যম সংক্রান্ত বিষয়—পর্যালোচনা করছেন।

এছাড়াও ১৭ জানুয়ারি থেকে দেশের সব প্রশাসনিক বিভাগে ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হয়েছে। তারা নিজ নিজ এলাকায় নির্বাচনী অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে ঢাকার কোর টিমে প্রতিবেদন দিচ্ছেন। নির্বাচন দিবসের ঠিক আগে তাদের সঙ্গে যোগ দেবেন আরও ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক।

নির্বাচন দিবসে কূটনৈতিক মিশনে নিয়োজিত পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের মাধ্যমে মিশন আরও জোরদার করা হবে। তারা ভোটগ্রহণ, ভোট গণনা ও ফলাফল সমন্বয় প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন।

ইইউ জানিয়েছে, তাদের পর্যবেক্ষকরা আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ আচরণবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করবেন এবং নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা বজায় রেখে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকবেন।

সরকারের পক্ষে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সফর সমন্বয়ে সহায়তাকারী সিনিয়র সচিব ও এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মরশেদ বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যবেক্ষক পাঠানোর নিশ্চয়তা প্রতিদিনই বাড়ছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের আগ্রহ বাড়তে দেখে আমরা সত্যিই উৎসাহিত। এটি অন্তর্বর্তী সরকার ও বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওপর তাদের আস্থারই প্রতিফলন যে, বাংলাদেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

প্রসঙ্গত, এবারের নির্বাচনে ৫০টিরও বেশি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ প্রায় ২ হাজার প্রার্থী ৩০০টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একই সঙ্গে জুলাই সংস্কার সনদ নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।