খুলনা | রবিবার | ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ | ১৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৯

সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে

|
১২:০৯ এ.এম | ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২


ফুটপাত নাগরিকদের হাঁটার সুবিধার্থে তৈরি হলেও রাজধানীসহ সারা দেশের ফুটপাতে মানুষের হাঁটা এখন দুঃসাধ্য এক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সড়ক ও ফুটপাতে অবৈধভাবে নির্মাণসামগ্রী রাখা এবং ফুটপাত দখল করে পসরা সাজিয়ে বসা, এটা যেন নিয়মেই পরিণত হয়েছে। এতে বাধ্য হয়ে নাগরিকদের ঝুঁকি নিয়ে ব্যস্ত সড়কের ওপর দিয়ে হাঁটতে হয়। সড়ক ও ফুটপাতে অবৈধভাবে রাখা নির্মাণসামগ্রী জব্দ করে সেগুলো তাৎক্ষণিক উন্মুক্ত নিলামে বিক্রি করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। শনিবারের এ অভিযানে ডিএনসিসি মেয়র উপস্থিত ছিলেন। ডিএনসিসির এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়।
মিরপুরে ডেঙ্গুবিরোধী সচেতনতামূলক প্রচার অভিযানে গিয়ে ডিএনসিসি মেয়র দেখতে পান প্রধান সড়কে ও ফুটপাতে বিপুল পরিমাণ রড, ইট, বালু ও অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রী রাখা হয়েছে। সড়কে ও ফুটপাতে নির্মাণ সামগ্রী রেখে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হওয়ায় ডিএনসিসি মেয়র নির্মাণাধীন ভবনের কর্তৃপক্ষকে না পেয়ে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ফুটপাত ও সড়কে অবৈধভাবে রাখা নির্মাণসামগ্রী জব্দ করে উন্মুক্ত নিলামে সেসব বিক্রি করা হয়। আমরা আশা করব, সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে। বস্তুত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনের রড, ইট, বালু ও অন্যান্য সামগ্রী রাস্তার ওপর ও ফুটপাতে রাখা, এটা অনেকটা নিয়মেই পরিণত হয়েছে। এছাড়া বহু জায়গায় নির্মাণসামগ্রীর কারণে ড্রেন ভরাট হয়ে যায়। এতে নাগরিকদের দুর্ভোগ বৃদ্ধি পায়। আমরা জানি, নাগরিক সচেতন না হলে এডিসের ভয়াবহতা বাড়বে। যেসব কারণে এডিসের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়, তাও বহুল আলোচিত। রাজধানীসহ সারা দেশে যাতে এডিসের ভয়াবহতা না বাড়ে সেজন্য নাগরিকদের দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।
নাগরিকরা যাতে নির্বিঘেœ হাঁটতে পারে সেজন্য ফুটপাতকে হকারমুক্ত রাখাও জরুরি। ফুটপাত হকারমুক্ত রাখার কাজটি কঠিন না হলেও হকারমুক্ত রাখা যাচ্ছে না। বিভিন্ন সময় ফুটপাত থেকে হকারদের তুলে দেওয়া হলেও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তা আবারও দখল হয়ে যায়। ফুটপাতকেন্দ্রিক চাঁদাবাজির বিষয়টিও বহুল আলোচিত। রাজধানীসহ সারা দেশেই ফুটপাতগুলো দখল করে বিভিন্ন রকম পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসে হকাররা। কেবল ফুটপাত নয়, কোনো কোনো এলাকায় মূল সড়কের একটি অংশ হকারদের দখলে চলে গেছে। রাজধানীর ভিআইপি সড়ক হিসেবে পরিচিত প্রধান সড়কের ওপরও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পণ্য যানবাহনে লোড-আনলোড করা হয়। এ কারণে যানজট আরও প্রকট আকার ধারণ করে। সড়ক ও ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত রাখতে অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সেগুলো যাতে দখল না হয় সেজন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।