খুলনা | মঙ্গলবার | ০৬ জানুয়ারী ২০২৬ | ২২ পৌষ ১৪৩২

পেঁয়াজে সিন্ডিকেটের প্যাঁচ : দাম নিয়ন্ত্রণে নজরদারি প্রয়োজন

|
০১:১৪ এ.এম | ২১ মে ২০২৩


পেঁয়াজের বাজারে রীতিমতো নৈরাজ্য চলছে। আবার পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ১০ টাকা। এখন এক কেজি পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে ৮০ টাকায়। গত সপ্তাহে কেনা গেছে ৭০ টাকায়। এক মাস আগে যা ছিল ৩৮ থেকে ৪০ টাকা। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে দ্বিগুণ বেড়েছে দাম। এ বেড়ে যাওয়া নিশ্চিতভাবেই অস্বাভাবিক ঘটনা। দেশে পেঁয়াজ উৎপাদনে এখনো ঘাটতি রয়েছে। মূলত ভারত ও মিয়ানমার থেকেই পেঁয়াজ আমদানি করে ঘাটতি পোষানো হয়। কিন্তু এই সময় হঠাৎ করে কেন পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেল। যদিও ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজের মৌসুমে সরবরাহ সংকটের অজুহাত দিচ্ছেন। দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়লেও শুধু ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি বন্ধের দোহাই দিয়ে দফায় দফায় দাম বাড়ানো হচ্ছে। এটা প্রতিবারের মতো মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের কারসাজি। পর্যাপ্ত পেঁয়াজ মজুদ থাকলেও তারা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে আবারও দাম বাড়াচ্ছেন। আসল কথা হলো ব্যবসায়ীদের কারসাজির কারণেই পেঁয়াজের দাম হঠাৎ বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন সরকারের উচিত দেশের বাজারে কেউ অতিরিক্ত মুনাফা লাভের চেষ্টা করছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা। এ বিষয়ে কারও অপরাধ প্রমাণিত হলে তাকে যথাযথ শাস্তির আওতায় আনতে হবে। আর যদি সত্যি সত্যি পেঁয়াজের ঘাটতি থেকে থাকে তা হলে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির ব্যবস্থা করতে হবে। বিশেষ করে বাজারে যারা প্রভাব বিস্তার করছে, তারা বড় ব্যবসায়ী। পেঁয়াজের দামে নৈরাজ্য ঠেকাতে হলে তাদের ধরা উচিত। দাম কমা বা বাড়ার পেছনে ছোট আড়তদার বা খুচরা ব্যবসায়ীদের তেমন ভূমিকা নেই।
বাজার তদারকি করে মজুদদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। না হলে এসব পণ্যের দাম গত বছরের মতো লাগামহীন হয়ে যাবে। আমাদের বাজার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভালো নয়। কখন ব্যবস্থা নিতে হবে, কী ব্যবস্থা নিতে হবে, তা হয় তারা জানে না অথবা সিন্ডিকেটের স্বার্থে জড়িয়ে থাকে। আমদানিকারক ও পাইকারদের ‘রাজনীতি সংশ্লিষ্ট’ চাপও বড় কারণ। কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরি হয়ে পড়েছে। পেঁয়াজ নিয়ে আর যেন এমন অবস্থায় না পড়তে হয় সেজন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।