খুলনা | শুক্রবার | ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ১০ ফাল্গুন ১৪৩০

বিস্ময়কর উত্থান : স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নের রূপকার প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা

মকবুল হোসেন মিন্টু |
০১:১৪ এ.এম | ১৩ নভেম্বর ২০২৩


প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদৃষ্টি সম্পন্ন নেতৃত্ব এবং সাহসী সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক খাতে ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়েছে। উন্নতির ছোঁয়া লেগেছে সর্বত্র। সামাজিক সূচকে এগিয়েছে বাংলাদেশে । জিডিপির আকার এবং মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। উন্নয়নের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ বিশে^র এখন ৪১তম অর্থনৈতিক দেশ। ২০৩২ সালে বিশে^র বড় অর্থনৈতিক ২৫টি দেশের মধ্যে একটি হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের মাতৃভূমি। এই ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ কাক্সিক্ষত গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।
তবে বিগত প্রায় ৩ বছর করোনাকালীন সংকট মোকাবেলা, ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলা, ফিলিস্তিনিদের ওপর অবৈধ দখলদার ইজরাইলিদের বর্বরাচিত নারকীয় হত্যাকান্ড, পশ্চিমাদের একতরফা নীতি বিশ^বাসীকে একটি সংকটময় পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। 
এছাড়া বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা এবং বলিষ্ঠ পদক্ষেপ বিশে^র কিছু মোড়লদের কু-দৃষ্টিতে পড়েছে। অযাচিত হস্তক্ষেপ, কীভাবে এদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে থামানো যায়, সে চেষ্টা তারা অব্যাহত রেখেছে। পাশাপাশি এদেশের কিছু দুর্নীতি পরায়ন অসাধু ব্যক্তির কারসাজিতে অর্থ ও ডলারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, এছাড়া বৈশি^ক অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অর্থনীতি কিছুটা শ্লথ হলেও প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশের উপর রয়েছে। 
বাংলাদেশ এখন পৃথিবীর উন্নয়নের নেতৃত্বের রোল মডেল। ২০৪১সালের মধ্যে এ দেশটি হবে স্মার্ট বাংলাদেশ। আর এর রূপকার হচ্ছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১৯৯৬ সাল থেকে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের ক্রমাগত উন্নতি ও সমৃদ্ধি ঘটতে শুরু করে। ইতিপূর্বে যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং রাজনীতি ছিল দিক নির্দেশনাহীন। পরবর্তীকালে ২০০৯ সাল থেকে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও রাজনীতি পেয়েছে নতুন গতি। বাংলাদেশের অর্জন গুলো আজ দৃশ্যমান এবং সর্বজন স্বীকৃত।
আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে শেখ হাসিনার নেতৃত্ব, আজ বিশ^ব্যাপী সমাদৃত । সমগ্র বিশে^র কাছে তিনি আজ উন্নয়ন নেতৃত্বের রোল মডেল হিসেবে সুপরিচিত, ভ‚ষিত হয়েছেন একাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কারে। বাংলাদেশের টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যের জন্য ‘গ্লোবাল অ্যালায়ান্স ফর ভ্যাকসিন অ্যান্ড ইমোনাইজেশন’ মাননীয় শেখ হাসিনাকে ‘ভ্যাকসিন হিরো’ সম্মাননায় ভ‚ষিত করে। এভাবে তিনি ‘ইউনিসেফ’ কর্তৃক ভ‚ষিত হন- (১) ‘চ্যাম্পিয়ন অব স্কিল ডেভেলপমেন্ট ফর ইয়ুথ’ সম্মাননায়। (২) এছাড়াও তিনি ‘আইপিএস ইন্টারন্যাশনাল অ্যাচিভমেন্ট এ্যাওয়ার্ড’ প্রাপ্ত হন  (৩) অর্জন করেন ‘গ্লোবাল উইমেন্স লিডারশিপ এ্যাওয়ার্ড’ (৪) ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্য আর্থ’ পুরস্কার লাভ করেন। 
শেখ হাসিনার বিজ্ঞ ও সাহসী সিদ্ধান্ত এবং দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ উদ্যোগসমূহ আজ বাংলাদশেকে একটা সম্মানজনক অবস্থায় দাঁড় করিয়েছে। সাফল্য অগণিত, এত সব সাফল্যোর স্বীকৃতি হিসেবে জাতিসংঘ কর্তৃক বাংলাদেশকে নিম্ন আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের পর্যায়ে উত্তরণের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন। এ অদম্য অগ্রযাত্রায় নিজেদেরকে সামিল হতে হবে এবং প্রত্যেককে যার যার অবস্থান থেকে কাজ করে যেতে হবে। সব বাধা অতিক্রম করে ২০৪১ সালের মধ্যে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ‘স্মাট বাংলাদেশ’ রূপান্তরিত হবে। এভাবেই ২১০০ সালে ডেলটা প্লান বাস্তাবয়নে শেখ হাসিনা সুদূর প্রসারী চিন্তা ও সাহসী নেতৃত্বের বহিঃপ্রকাশ। যা বাস্তাবয়ন এ দেশের ১৭ কোটি মানুষের সার্বিক সহযোগিতায় সম্ভব হবে। 
স্বাধীনতার পরবর্তী বাংলাদেশে মোট বাজেট ছিল ৭৮৬ কোটি টাকা মাত্র। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে আমাদের দেশে ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার বাজেট পাশ হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় বাজেট। এই বাজেটে ভর করে সমৃদ্ধির পথ ধরে উন্নয়নের মহাসড়কে এখন স্মার্ট বাংলাদেশ। 
তবে বিশ^ মোড়লদের বিরোধিতা সত্তে¡ও প্রমত্ত পদ্মায় সেতু নির্মাণ ছিল চ্যালেঞ্জিং অর্জন। ২০২৩ সালের শেষের দিকে এসে বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের চিত্র। খরস্রোতা পদ্মার বুক চিরে চলছে উপরে গাড়ি নিচে ট্রেন। যানজটের ঢাকা শহরে যোগাযোগ সহজ করেছে মেট্রো রেল। শহরে একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে ঝামেলামুক্ত চলাচল নিশ্চিত করেছে এ্যালিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে।
শেখ হাসিনা সরকারের উলে­খযোগ্য উন্নয়ন ও সাফল্য :
১. স্বপ্নের পদ্মা সেতু ও মেট্রো রেল চালু। ২. কর্ণফুলী নদীতে বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণ। ৩. রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। ৪. রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ। ৫. দেশের প্রত্যেকটি বাড়িতে বিদ্যুতায়ন। ৬. এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে নির্মাণ। ৭. কক্সবাজারে আন্তজার্তিক মানের রেলস্টেশন, বিমান বন্দর ও স্টেডিয়াম নির্মানের উদ্যোগ। ৮. খুলনায় শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় ও ক্যান্সার হাসপাতাল। ৯. বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল ও কৃষি বিশ^বিদ্যালয় স্থাপন। ১০. মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন, ইপিজেড ও সাইলো নির্মাণ। ১১. সারাদেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণ। ১২. যমুনা নদীতে রেল সেতু নির্মাণ। ১৩. রেল সেতুসহ খুলনা-মোংলা রেললাইন নির্মাণ। ১৪. ২ লাখ ১৫ হাজার ৮২৭টি ভূমিহীন পরিবারকে জমির মালিকানাসহ ঘর প্রদান। ১৫. প্রাথমিক শিক্ষকদের চাকুরি জাতীয়করণ। ১৬. শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি। ১৭. ১০ লাখের অধিক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয়দান। ১৮. মুক্তিযোদ্ধা, বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী, মাতৃত্বকালীন ভাতাসহ কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান। ১৯. প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল তথ্য সেবা কেন্দ্র স্থাপন। ২০. ১০০ সড়ক ও সেতুর উদ্বোধনসহ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি। ২১. বিনামূল্যে করোনা ভ্যাকসিন ও করোনাকালীন মানবিক সহায়তা প্রদান। ২২. বছরের প্রথম দিনে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে নতুন বই বিতরণ ও উপবৃত্তির মাধ্যমে শিক্ষা সহায়তা প্রদান। ২৩. কৃষকের সার, বীজ কিটনাশকে ভর্তুকি প্রদানসহ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন।
খুলনাঞ্চলে উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা : ইতিপূর্বে প্রধানমন্ত্রী খুলনা মহানগীর উন্নয়নে ২টি প্রকল্পে প্রায় ১৫০০ কোটি টাকা অনুমোদন দেন। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্ত উন্নয়ন ও পুনর্বাসন প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৬০৭ কোটি ৫৬লাখ ০৭ হাজার টাকা। ইতিমধ্যে  ৫৭১টি রাস্তার মধ্যে ৫৪৪টি ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা উন্নয়ন ও পুনর্বাসন করা হয়েছে। বাকি ১২৭টি রাস্তা উন্নয়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। খুলনা শহরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পে ৮২৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকার প্রকল্পের কাজ চলছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নে বিভিন্ন কাজ চলমান রয়েছে। যার সুফল নগরবাসী ইতোমধ্যে পেতে শুরু করেছে। 
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা রূপসা নদীর ওপর খুলনা-মোংলা রেল সংযোগের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। ফলে এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত উন্মেচিত হচ্ছে। ৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেল পথ নির্মাণে ব্যয় ৪ হাজার ২৬০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সামুদ্রিক বন্দর মোংলা এবং পাশ^বর্তী দেশ ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে খুলনাঞ্চল এখন রেল বিপ্লবের দ্বারপ্রান্তে। খুলনা থেকে ঢাকার রেলপথ ২১৫ কিলোমিটার কমিয়ে ১৭৫ কিলোমিটার পথে ৪ ঘন্টায় খুলনা, যশোর ভাঙ্গা ও পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা পৌছানো সম্ভব হচ্ছে । এতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ২১ জেলার মানুষ সরাসরি রেল সংযোগের মাধ্যমে যুক্ত হয়েছে। 
এতদাঞ্চলে অর্থনৈতিক কর্মচাঞ্চল্য ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। খুলনার বন্ধকৃত মিল,কল-কারখানা চালুসহ নতুন ছোট-ছোট শিল্পকলকারখানা তৈরি হবে। ফলে পোষাক শিল্প, পাটজাত পন্য, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, মৎস্য ও কৃষি শিল্পের অপার সম্ভাবনা তৈরি হবে এবং সুন্দরবনকে ঘিরে দেশী ও বিদেশী পর্যটকদের আগমন ঘটবে খুলনাকে কেন্দ্র করে। 
এই সকল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আগামীতে খুলনাঞ্চলে একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার তৈরি হবে। খুলনা প্রকৃতিক এবং ভ‚-রাজনৈতিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে সড়ক, রেল, নৌ ও সমুন্দ্র বন্দর দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।
এতদাঞ্চলের চলমান প্রকল্প বাস্তবায়ন, বিশ^মানের ত্রি-মাতৃক যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলা, আকাশ/নৌ/সড়ক পথে বহুমাত্রিক বহিবহনের নিশ্চয়তা, বাণিজ্যিকবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, সমুদ্রবন্দর ভিত্তিক সুযোগগুলো সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে শুধু জাতীয় অর্থনীতিতে নয় আঞ্চলিক অর্থনীতির রাজধানীতে পরিণত হবে আমাদের খুলনা।  
প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি এখন খুলনা অঞ্চলকে ঘিরে। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বদলে দিয়েছে খুলনাকে। একের পর এক প্রকল্প এখন বাস্তবায়নের পথে। জননেত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় রূপসা নদীর ওপর নির্মিত খানজাহান আলী সেতু এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে মাইকফলক-যা পদ্মা সেতুতে যাতায়াত সুগম করেছে।
রূপসা নদীর তীরে নির্মাণ করা হচ্ছে বহু কাক্সিক্ষত হাইটেক পার্ক। এতে প্রতি বছর ১০০০ জনের আইটি প্রশিক্ষণ ও ৩০০০ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ৪০০০ একর জমির উপর ১৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য এই আইটি পার্ক। খুলনার শিল্পাঞ্চলকে প্রযুক্তি নির্ভর ও শিল্পঞ্চলে রূপান্তরিত করবে। ২০২৪ সালের মধ্যে এর নির্মাণ কাজ শেষ হবে। এছাড়া খুলনা কৃষি বিশ^বিদ্যালয়, শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়, বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল, ক্যান্সার হাসপাতাল, খুলনা এ্যাডমিনিস্ট্রোটিভ কনভেনশন সেন্টার, সমাজসেবা অধিদপ্তর ভবন, বিএসটিআই ভবন নির্মাণের কার্যক্রম শেষ হলে খুলনা একটি নান্দনিক ও আধুনিক শহরে পরিণত হবে। 
খুলনা নগরীর প্রবেশদ্বার গল­ামারীর ব্রিজটি পুনঃনির্মাণের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। ব্রিজটি নির্মিত হলে যানজটসহ নগরীর সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি পাবে। 
খুলনায় ২৪টি প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী : খুলনার জনসভায় বক্তব্য রাখতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় ৫ বছর পর ১৩ নভেম্বর খুলনায় আসছেন। এই জনসভাটি হবে খুলনায় এ যাবৎকালের সর্ববৃহৎ জনসভা। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খুলনা বিভাগের ১০টি জেলা থেকে আগত বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাবেশ ঘটবে এই জনসভায়-যা সার্কিট হাউজ ময়দানকে ছাড়িয়ে চারপাশের বিভিন্ন সড়কে অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তার লাভ করবে বলে খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ আশা করছে।
শেখ হাসিনা দুপুর ২টায় সার্কিট হাউজ মাঠে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখবেন এবং জনসভাস্থল থেকে খুলনার ২৪টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। 
খুলনা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের প্রেরিত উদ্বোধনযোগ্য প্রকল্পের তালিকায় (প্রস্তাবিত) রয়েছে মোট ২২টি প্রকল্প। এর মধ্যে গণপূর্ত বিভাগের রয়েছে ৮টি। প্রকল্পগুলো হচ্ছে নগরীর সাউথ সেন্ট্রাল রোডে ‘১৯৭১ : গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘরের ভবন’ নির্মাণ কাজ,শামসুর রহমান রোডে সিভিল সার্জনের অফিস ভবন ও বাসভবন, পাইকগাছা উপজেলায় একটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন কাজ, খুলনা শিক্ষানবিশি প্রশিক্ষণ দপ্তর সংস্কার ও আধুনিকায়ন কাজ, বিএসটিআই’র ১০ তলা আঞ্চলিক কার্যালয়, বিটাক খুলনা কেন্দ্রে ১০ তলা বিশিষ্ট নারী হোস্টেল ভবন, পাইকগাছা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ভবন নির্মাণ ( সিভিল, স্যানিটারি ও বৈদ্যুতিক) কাজ, নগরীর দৌলতপুরে কৃষি প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের  ৪ তলা ছাত্রাবাসের নির্মাণ কাজ, সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগরে প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে-সুন্দরবনে পরিবেশবান্ধব পর্যটন (ইকোট্যুরিজম) সুবিধা স¤প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত শেখেরটেক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকল্প রয়েছে ১০টি। এগুলো হচ্ছে- ডুমুরিয়া টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজর ৫ তলা একাডেমিক কাম ৪ তলা প্রশাসনিক ও ওয়ার্কসপ ভবন নির্মাণ কাজ, বয়রা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খুলনা কলেজিয়েট স্কুল, সরকারি এল বি কে ডিগ্রি মহিলা কলেজ, সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ, চালনা বাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, তালিমুল মিল­াত রহমাতিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, নজরুল নগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় এবং আরআরএফ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিটিতে ৬ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজ, আড়ংঘাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৪তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে-ডুমুরিয়া উপজেলার চরচরিয়া শিবনগর সড়কে ভদ্রা নদীর ওপর ৩১৫ দশমিক ৩০ মিটার দীর্ঘ  পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ কাজ। 
উদ্বোধন প্রকল্পের তালিকায় রয়েছে, সিটি কর্পোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা উন্নয়ন ও পুনর্বাসন প্রকল্প এবং খুলনা শহরে জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প এর আওতায় খালিশপুর বিআইডিসি রোডে ড্রেন, ফুটপাত নির্মাণসহ রাস্তা প্রশস্তকরণ ও পুনঃনির্মাণ কাজ, কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রকল্পের তালিকায় রয়েছে-নগরীর দৌলতপুরে অতিরিক্ত পরিচালকের ৬তলা বিশিষ্ট নবনির্মিত কার্যালয়। 
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনযোগ্য প্রকল্পের তালিকায় রয়েছে ২টি। এগুলো হচ্ছে-খুলনা সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মাথাভাঙ্গা এলাকায় স্যানিটারি ল্যান্ডফিল নির্মাণ কাজ, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতাধীন দিঘলিয়া টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের ৫ তলা একাডেমিক কাম ৪তলা প্রশাসনিক ও ওয়ার্কসপ ভবন নির্মাণ কাজ, প্রকল্পগুলোর তালিকা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। 
ইতোপূর্বে খুলনাবাসীর কাছে দেয়া প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্র“তি ও অঙ্গিকারের অধিকাংশই বাস্তবায়িত হয়েছে। খুলনা ও খুলনার মানুষের প্রতি জননেত্রী শেখ হাসিনার আলাদা আকর্ষণ রয়েছে। তিনি এ অঞ্চলের প্রতি যথেষ্ট আন্তরিক। আগামীতেও জননেত্রী শেখ হাসিনার দেয়া অঙ্গিকার ও বিভিন্ন প্রকল্প যথাযথ ভাবে বাস্তবায়িত হবে, বিপুল সংখ্যক জনগণের উপস্থিতিতে খুলনার জনসভাটি সার্বিকভাবে সফল হবে এবং তিনি আবারও ক্ষমতায় আসবেন এবং দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবেন-এটাই খুলনা অঞ্চলের মানুষ প্রত্যাশা করে।  
লেখক : বীর মুক্তিযোদ্ধা, খুলনা প্রেসক্লাব ও খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি, স্বাধীনতা সাংবাদিক ফোরাম, খুলনার সভাপতি, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি।