খুলনা | শনিবার | ০২ ডিসেম্বর ২০২৩ | ১৭ অগ্রাহায়ণ ১৪৩০

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহারে গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রথম শর্ত হচ্ছে সমন্বয়

রুমানা আফরোজ |
১২:৩৮ এ.এম | ১৯ নভেম্বর ২০২৩


“শিক্ষা নিয়ে গড়ব দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ”। এই শ্লোগানকে সামনে রেখে নিজের মেধা, মননের বিকাশ ঘটাতে এবং নিজেকে বর্তমান প্রযুক্তির সাথে আধুনিকতর করতে অবশ্যই একজন আদর্শ শিক্ষককে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সময় যতই এগোচ্ছে জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তির গুরুত্ব ততোই বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সঙ্গে প্রতিনিয়ত, নিত্য নতুন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন ঘটিয়ে চলেছে জীবনের সর্বক্ষেত্রে। শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের প্রভাব ও অনুভূত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। শিক্ষায় উপযুক্ত প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে একজন শিক্ষক সময়ের সাথে নিজেকে আধুনিক মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করতে সক্ষম। তাই অবশ্যই আধুনিক হওয়ার জন্য এবং সময়ের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং আধুনিকতর প্রযুক্তি সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকতে হবে। প্রযুক্তির অভাবনীয় পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে শিক্ষা ব্যবস্থায়। ঘরে বসেই শিক্ষার্থীরা এখন দেশ-বিদেশে বা বিশ্বের যেকোন প্রান্তে থাকা বিভিন্ন শিক্ষকদের ক্লাসে সরাসরি অংশগ্রহণ করতে পারে। গুগল বা ইউটিউব সার্চের মাধ্যমে আপলোডকৃত ভিডিও ক্লাসগুলো দেখে নিজেকে আধুনিকতর ও সমৃদ্ধ করতে পারে। যার সুফল আমরা দেখতে পেয়েছি covid-19 সময়ে বিদ্যালয় বন্ধ থাকাকালীন। শিক্ষকগণ টিভি চ্যানেল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করে গেছেন। বিভিন্ন পর্যায়ের ICT দক্ষ শিক্ষকগণ তাদের জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষাক্ষেত্রে শিখন ঘাটতি দূরীকরণের জন্য জুম, গুগল মিট এ্যাপ ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের পাঠে সংযুক্ত রাখতে নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছিলেন। বাংলাদেশ সরকারের তথ্য প্রযুক্তি বিভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ল্যাপটপ, প্রজেক্টের, স্মার্ট টিভি, সাউণ্ড সিস্টেমসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় আইসিটি উপকরণ সরবরাহ করে যাচ্ছে।
মাল্টিমিডিয়া ক্লাস ব্যবহারের মাধ্যমে সহজেই যে কোনো বিমূর্ত বিষয়কে মূর্ত করে তোলা সম্ভব শিক্ষার্থীদের নিকট। প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিতে বিজয় কন্টেণ্ট এর ব্যবহার তারই উৎকৃষ্ট উদাহরণ। এতে প্রাক-প্রাথমিকের সম্পূর্ণ বইটির ভিডিও সূচিপত্র অনুযায়ী এমনভাবে সন্নিবেশ ঘটানো হয়েছে যেটি একজন আইসিটি শিক্ষক প্রতি পাঠে ব্যবহার করার ফলে শিক্ষার্থীরা অনেক আনন্দ লাভের পাশাপাশি হাতে-কলমে শিখনের ক্ষেত্রে বিশেষ ভাবে পারদর্শী হবে এবং পড়ালেখায় ভীতি দূর হবে। ১ম শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণির প্রতিটি বিষয়ের আকর্ষণীয় মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট ব্যবহারের ফলে প্রতিটি পাঠ শিক্ষার্থীদের নিকট বোধগম্য ও স্থায়ী হয়। তাই সময়ের সাথে সাথে প্রযুক্তির উপযুক্ত ব্যবহার, প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে নিজেকে খাপ খাওয়ানোর জন্য অবশ্যই আধুনিকতর প্রযুক্তির জ্ঞান, দক্ষতা একজন শিক্ষককে অর্জন করতে হবে। 
মাননীয়  প্রধানমন্ত্রীর স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে আধুনিক প্রযুক্তির জ্ঞানলব্ধ শিক্ষক এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। আর এক্ষেত্রে সারা বাংলাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করার জন্য Helping Page on e Monitoring নামে একটি ফেসবুক পেজ সেবার হাত প্রশস্ত করে রেখেছে। যেখানে ডিপিই-এর কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সারা বাংলাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আইসিটি দক্ষ শিক্ষকগণ সম্পুর্ন স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন শুধুমাত্র সেবার ব্রত নিয়ে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ এখন আইসিটি বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও সমসাময়িক সমস্যার আশু সমাধান পাচ্ছেন এ পেজের সেবা প্রদানকারী কর্মকর্তা ও শিক্ষকগণের কাছ থেকে। 
প্রযুক্তি একটা সময়ে গোটা বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করবে। প্রযুক্তির কল্যাণে আমরা একটি উন্নত পৃথিবী প্রাপ্ত হবো, আর সেই জন্যই আমাদের শিক্ষাক্ষেত্রে ICT বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষকদের দক্ষ হয়ে গড়ে ওঠা এখন সময়ের দাবি। 
লেখক : সহকারী শিক্ষক, বাংলাদেশ ব্যাংক স্টাফ কোয়ার্টার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খুলনা এবং ICT4E District Ambassador Khulna।